মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: হাওড়া, ভবানীপুর অষ্টমীর দিন আমরা উপস্থিত ছিলাম হাওড়া জেলার উদায়নারায়নপুর থানার অন্তর্গত ভবানীপুর গ্রামের “আমরা সবাই ক্লাব” আয়োজিত দুর্গোৎসবে। ছোটো একটি প্রত্যন্ত গ্রাম হলেও, এখানে আয়োজিত এই দুর্গোৎসব তার অভিনবত্ব, পরিবেশ-সচেতনতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এই মণ্ডপের মূল কারিগর ও চিন্তাবিদ, ক্লাবের সম্পাদক অরুণ পল্যে নিজ হাতে মণ্ডপটি তৈরি করেছেন ও সাজিয়েছেন। প্রাকৃতিক উপকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশবান্ধব ভাবনার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই মণ্ডপ একদিকে যেমন পরিবেশ-সচেতন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, তেমনই আগামী প্রজন্মের কাছে রেখে গেছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সুরক্ষার জন্য রাখা আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। একটি গ্রামীণ দুর্গোৎসবে এমন সচেতন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার জন্য ক্লাবের এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
মণ্ডপটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল সুচারু কারুকাজে ভরপুর। প্রতিটি দিক নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত এবং সৃজনশীলতায় পরিপূর্ণ। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে দেবী দুর্গার সাজসজ্জা ছিল খুবই সাধারণ ।লাল পাড় সাদা শাড়িতে দেবী মা-র অনবদ্য রূপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।
এখানেই শেষ নয়, ক্লাবের পক্ষ থেকে মাননীয় অরুণ পল্যে সহ একাধিক বর্ষীয়ান ব্যক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণে মণ্ডপের সর্বত্র ছিল শৃঙ্খলার এক নিখুঁত ছোঁয়া। ভিড়ের মধ্যেও ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাফেরা, যা বড় শহরের পুজোতেও আজকাল বিরল।
প্রতিমা দর্শনের পর মণ্ডপের বাইরে রাখা ছিল একটি খাতা ও কলম, যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেদের মূল্যবান মতামত, অভিজ্ঞতা ও অনুভব লিখে জানাতে পারছিলেন। এই ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি দর্শনার্থীদের সঙ্গে আয়োজকদের এক সেতুবন্ধনের কাজ করেছে।
এই অভিনব মণ্ডপ ইতিমধ্যেই পেয়েছে বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি, এবং সরকারি সহযোগিতায় এটি পেয়েছে হেরিটেজ তকমা , যা ভবানীপুর গ্রামের গর্ব, এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তাদের জন্য একটি পথপ্রদর্শক দৃষ্টান্ত।

