পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি:- বর্তমান বিশ্বে এক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন। মানুষের অতি ব্যবহৃত প্রযুক্তি, বনাঞ্চল নিধন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রকৃতির উপর। প্রকৃতি যেন তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে আগে ছয়টি ঋতুর স্পষ্ট উপস্থিতি ছিল—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। কিন্তু এখন ঋতুর পার্থক্য প্রায় অনুপস্থিত। আমরা বর্তমানে মূলত দুটি ঋতুই বেশি অনুভব করি—গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল। গ্রীষ্মকাল হচ্ছে অত্যধিক তাপদাহপূর্ণ, আর বর্ষাকালও তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ফেলেছে।
আগে বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টি হতো, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। এখন আর তেমনটা হয় না। এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হয় নিম্নচাপের। বর্ষার বৃষ্টি এখন অনিয়মিত, হঠাৎ হঠাৎ ভারী বৃষ্টি হয়, তাতে আবার জলাবদ্ধতা বা বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময়ে দীর্ঘদিন ধরে একফোঁটা বৃষ্টিও হয় না, ফলে দেখা দেয় খরা।
উষ্ণায়নের কারণে শুধু ঋতুচক্রই নয়, প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের উপরও। অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে। বরফ গলছে মেরু অঞ্চলে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এসবই বোঝায়, প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। বনভূমি সংরক্ষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকা, এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।

