পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা- মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী সম্প্রতি মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমার জন্য গিয়েছিলেন, যেখানে ঘটে যায় একটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। রাজা ও তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী শিলংয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরেই নিখোঁজ হন। পরে, রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, বিয়ের মাত্র কয়েক দিন পর থেকেই সোনম পরিকল্পনা করেছিল স্বামীকে খুন করার। ১১ মে তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২০ মে তারা মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২ জুন রাজার মৃতদেহ একটি খাদে পাওয়া যায়, যেখানে প্রথমে ডাকাতির ঘটনা সন্দেহ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি রক্তমাখা রেইনকোট পাওয়া যায় এবং রাজার সোনার আংটি ও চেইনও খোয়া যায়। পুলিশ যত তদন্ত চালায়, মামলাটি ততই রহস্যময় হয়ে ওঠে।
৯ জুন, পুলিশ উত্তরপ্রদেশের একটি ধাবা থেকে সোনম রঘুবংশীকে গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে আরও তিন সন্দেহজনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাও ছিল। প্রথমে সোনম দাবি করেন, তাকে মাদক খাইয়ে গাজিপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে দুষ্কৃতীরা রাজাকে হত্যা করেছিল, তবে তিনি নিজের অবস্থান বা কীভাবে পালিয়েছিলেন তা জানাতে অস্বীকার করেন।
তবে, তদন্তে সত্যি উদঘাটিত হয়। সোনম এবং রাজ কুশওয়াহা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের কাছাকাছি ছিলেন, কারণ রাজ কুশওয়াহা সোনমের পরিবারের ব্যবসায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করত। সোনমের পরিবার রাজার সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং বিয়ে ঠিক হওয়ার পরই সোনম রাজের খুনের পরিকল্পনা করতে পারে এমন ধারণা পুলিশ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে, সোনমের দাবি যে তাকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পুলিশ আরও দাবি করছে, সোনমের উদ্দেশ্য ছিল রাজাকে খুন করে তার গয়নাগাটি ছিনতাই করা।

