পায়ের পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধের সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। রাজ্য সরকারের হাতে এখন মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি এই অর্থ মেটানোর জন্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের উপর চাপ বেড়েছে, এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজ্য এবার বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকার শুধু রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব নয়, বরং বাড়তি ঋণের পথও নিতে পারে। আগে আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে গেলে রাজ্য অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, কোনওভাবেই হোক রাজ্যকে এবার কর্মীদের owed DA মেটাতেই হবে। ফলে বহু সরকারি কর্মচারীর মুখে এখন আশার আলো।
উল্লেখযোগ্য, এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন। পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বকেয়া ডিএ নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। মামলাটি প্রথমে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে (স্যাট), এরপর কলকাতা হাইকোর্ট এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। স্যাটে প্রথমে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার, তবে পরে প্রতিটি ধাপে কর্মচারীরা আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পান।
২০২২ সালে প্রথমবার এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে ওঠে, তখন বিচারপতি ছিলেন জাস্টিস দীনেশ মাহেশ্বরী ও জাস্টিস ঋষিকেশ রায়। পরে বিভিন্ন সময়ে মামলাটি একাধিক বেঞ্চে ওঠে— যার মধ্যে ছিলেন জাস্টিস দীপঙ্কর দত্ত ও জাস্টিস সঞ্জয় কুমার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অবসর নেন বিচারপতি ঋষিকেশ রায়। এরপর কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেলেও সম্প্রতি মামলায় গতি এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এখনকার প্রেক্ষাপটে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পাওয়ার আশায় রয়েছেন রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মী। রাজ্যের এই উদ্যোগ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে বহুদিনের এক আন্দোলনের অন্তত جزিগত সুরাহা মিলতে পারে।

