নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : আজ ২৫ ডিসেম্বর, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকী।এই বিশেষ দিনে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দ্রৌপদী মুর্মু।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মোদী লেখেন,“অটলজি ছিলেন এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক,যিনি দেশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।”
১৯৮৯ সালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন শপথ নিয়েছিলেন তখন আমাদের দেশ একটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় ৯ বছরে চারটি লোকসভা নির্বাচন দেখেছিল দেশ। জনগণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।নতুন সরকার কতটা কার্যকরী হবে সেই নিয়ে একটা সন্দেহ ছিল দেশবাসীর মনে। কিন্তু অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং তার সরকার গোটা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছিল।আজকে সেই মহান ব্যক্তির জন্মদিন।
অটলবিহারী বাজপেয়ী তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর নেতৃত্বে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন মর্যাদা অর্জন করে।পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের আত্মপ্রকাশ, জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা তাঁর শাসনকালের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
রাজনৈতিক জীবনে বাজপেয়ী ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্ব। দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সম্মান অর্জন করেছিলেন।তাঁর সংযত ভাষা, কবিসত্তা ও উদার মনোভাব ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল।
প্রসঙ্গত, অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনটি দেশজুড়ে ‘সুশাসন দিবস’ (গুড গভর্ন্যান্স ডে) হিসেবে পালিত হয়।এই দিনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণমূলক শাসনের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়।
এদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, স্মরণসভা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।তাঁর দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও আদর্শ আজও ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পথপ্রদর্শক হয়ে রয়ে গেছে ।

