নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি :
ভক্তি, আনন্দ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অপূর্ব মেলবন্ধনে এ বছর হাওড়া জেলার বেনূচক পূর্ণানন্দ মঠের পরিচালনায় রিমেক মিডিয়া স্টুডিওয় পালিত হলো জগদ্ধাত্রী পুজো। পুজো উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ভক্ত, দর্শনার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নামে। পুরো প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে ভক্তিমূলক আবহে, ধূপ-ধুনো, ঘণ্টাধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুগ্ধ হয় উপস্থিত জনতা।
অষ্টমীর দিন ছিল এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ ছিল দ্বাদশ কুমারী পুজো। এখানে ১২ জাতের কুমারীকে দেবীর রূপে পূজা করা হয়। কুমারীদের সাজে, পুষ্পস্তবক ও পূজার্চনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত উপস্থিত হন এই বিরল আচার প্রত্যক্ষ করতে। উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে দেখা যায় গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঞ্চার।
পুজো উপলক্ষ্যে ছিল দুপুরে মা জগদ্ধাত্রীর ভোগ বিতরণ, যেখানে ভক্তদের জন্য পরিবেশন করা হয় প্রসাদ ও ভোগ। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগ হিসেবে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এই মানবিক কর্মসূচি পুজোকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
এবারের পুজোর অন্যতম বিশেষ দিক ছিল ডাকের সাজে মায়ের প্রতিমা। সোনালী রঙের ঝলকানি, রঙিন আলোর খেলা ও সূক্ষ্ম অলংকরণে দেবীর রূপে ফুটে ওঠে এক অনবদ্য শৈল্পিক সৌন্দর্য। দর্শকদের অনেকে জানান, “এত সুন্দর ডাকের সাজ বহু বছর পরে দেখা গেল।”
পূর্ণানন্দ মঠের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,”প্রতিবছরই আমরা জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক কর্মসূচি ও ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি।এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।ভবিষ্যতেও এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
শেষ দিন পর্যন্ত চলা এই পুজো উৎসবে ছিল ভক্তির উচ্ছ্বাস, সমাজসেবার বার্তা এবং সাংস্কৃতিক আবহের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সব মিলিয়ে, বেনুচক পূর্ণানন্দ মঠের জগদ্ধাত্রী পুজো এ বছর হয়ে উঠেছিল এক অনবদ্য ভক্তিময় ও মানবিক উৎসবের প্রতীক।

