পায়েল পাখিরা, সংবাদদাতা,আর এন বি:-পালিয়াড়া বাঁধটি একসময় এলাকার মানুষের আশা এবং ভরসার প্রতীক ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শক্ত ভিত্তি যেন হারাতে বসেছে। বর্তমানে এই বাঁধের অবস্থা শোচনীয়। এল অ্যান্ড টি (L&T) নির্মিত বোল্ডার দিয়ে গড়া বাঁধের মধ্য দিয়ে এখন সবুজ ঘাস উঁকি মারছে। বোল্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা এই ঘাস যেন অদৃশ্য বিপদের বার্তা বহন করছে।
একদিকে নদীর স্রোত, অন্যদিকে বাঁধের গাঁথুনির দুর্বলতা – সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষার শুরুতেই যখন বন্যার জল বাঁধে চাপ তৈরি করে, তখন দেখা যায় জল চুইয়ে পড়ছে বোল্ডারের ভেতর দিয়ে। এই চুইয়ে পড়া জল একদিন বড় ফাঁটলের জন্ম দেবে, এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয়দের। যদি সময়মতো মেরামতি না করা হয়, তবে এক ভয়াবহ বিপর্যয় যে আসন্ন – তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এই বাঁধ নির্মাণে যে বোল্ডার ব্যবহার করা হয়েছে, তা একসময় যথেষ্ট শক্তপোক্ত ছিল। কিন্তু এখন অনেক বোল্ডারের ফাঁক দিয়ে শুধু জলই নয়, আগাছাও গজিয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই স্পষ্ট বার্তা যেন আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে – বাঁধের অবস্থা আর আগের মতো নেই। এটি এখন এক ভঙ্গুর প্রাচীর, যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
পালিয়াড়া বাঁধ শুধু একটি কাঠামো নয়, এটি ওই অঞ্চলের চাষবাস, জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একবার যদি এই বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে শুধু কৃষিকাজ নয়, বসতভিটাও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে।
এখনই যদি প্রশাসন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। স্থানীয় বাসিন্দারা চায়, দ্রুত বাঁধটির পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করে যথাযথ মেরামত করা হোক। নয়তো প্রকৃতি নিজের ভাষায় আমাদের বোঝাবে – অবহেলার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে।

