পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: মুর্শিদাবাদের রানীনগর এলাকায় ভোরের আলো ফুটতেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার সকাল প্রায় সাড়ে ছ’টার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রী বোঝাই একটি নৌকা উলটে যায়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই নৌকাডুবির ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন ভোরে চরের জমিতে কাজের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক নদী পারাপারের জন্য নৌকায় ওঠেন। চর সরণদাজপুর কারগিল ঘাট থেকে অপর পারে যাওয়ার সময় মাঝনদীতে গিয়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, নৌকায় যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই নৌকাটি উলটে যেতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
ডুবির সঙ্গে সঙ্গেই নদীর জলে হাহাকার শুরু হয়। যাত্রীরা কেউ সাঁতরে তীরে পৌঁছান, কেউ আবার অন্যদের টেনে তুলে আনেন। স্থানীয় মানুষরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নদীর ঘাটে ভিড় জমে যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় রানীনগর থানার পুলিশও।
যদিও অধিকাংশ যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনও এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর নাম সুজন সেখ। নদীতে মাছ ধরার জাল ফেলে খোঁজ চলছে। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে ডুবুরি নামানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা ভীষণভাবে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সকাল থেকে তারা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ছেলের সন্ধানের আশায় অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, নদীতে প্রতিদিনই বহু মানুষ এইভাবে যাতায়াত করেন। চরের জমিতে চাষাবাদের জন্য ভোরবেলায় কৃষকদের নদী পেরোতে হয়। কিন্তু নৌকাগুলিতে যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় না, ফলে মাঝেমধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও জুন মাসে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের ধুলিয়ান পারলালপুর গঙ্গাঘাটে এক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ১২ জন শ্রমিক কাজ সেরে বাঁকুড়া থেকে ফিরছিলেন। গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় বৈষ্ণবনগরে পৌঁছতে তাঁরা মাঝিদের সাহায্যে একটি ছোট নৌকায় ওঠেন। সঙ্গে ছিলেন দুইজন মৎস্যজীবীও। নদীর মাঝেই হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। যদিও বাকিদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু জাহাঙ্গীর শেখ নামে এক শ্রমিক তলিয়ে যান। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় গঙ্গার প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
একাধিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, কেন এখনও এই নৌকাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হলো না। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করছেন। ফলে প্রশাসনের ভূমিকাও এবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

