পায়েল পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- পাহাড়ে একটানা ভারী বর্ষণে আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিকিম ও কালিম্পংয়ের মধ্যে অন্যতম যোগাযোগপথ — ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রবল বৃষ্টির জেরে এই লাইফলাইন সড়কের একাধিক অংশে ধস নেমেছে। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে বিশালাকৃতির পাথর ও বোল্ডার, ফলে রাস্তাঘাটে তৈরি হয়েছে ভাঙাচোরা পরিস্থিতি। এর ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সিকিম সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত বন্ধ রাখা হবে হেলিকপ্টার পরিষেবা।
২০২৪ সালের মার্চে সিকিমের পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল বাগডোগরা-গ্যাংটক রুটে হেলিকপ্টার পরিষেবা। কিন্তু বিগত কয়েকদিনের টানা খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই পরিষেবা আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। এমআই–১৭২ মডেলের ডবল ইঞ্জিন হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই রুটে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছিল। গ্যাংটকের কাছে বুরতুক হেলিপ্যাডে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেও এই পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উড়ান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
এরই মধ্যে মেল্লি ও কির্নে অঞ্চলের মধ্যবর্তী সড়কভাগ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালিম্পং জেলা প্রশাসন সেখান দিয়ে ভারী যান চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। লিকুভিড়ের নিকটবর্তী এলাকায় ক্রমাগত পাহাড় থেকে নেমে আসছে পাথর, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পরিস্থিতির ভিত্তিতে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সিকিমের পর্যটন ও অসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সিএস রাও জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পর্যটকই সড়কপথে যাতায়াতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অন্যদিকে, বৃষ্টির প্রকোপে হেলিকপ্টার চলাচলও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কালিম্পং জেলা প্রশাসন সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে জোরকদমে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ি পথে ভ্রমণ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল জানান, “আবহাওয়া এমন অনিশ্চিত থাকলে হেলিকপ্টার উড়বে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে পর্যটকদের সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হবে, টিকিট ফেরতের জন্যও অপেক্ষা করতে হবে।”
সব মিলিয়ে আবহাওয়ার রোষে আপাতত পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দু’টিই চরম চ্যালেঞ্জের মুখে সিকিম ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।

