নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: শালবনী ও কেশপুরের সীমানায় অবস্থিত জঙ্গলঘেরা জামবনি গ্রাম, সবুজ ধানের মাঠে ঘেরা এই আদিবাসী জনপদে এখন খুশির আমেজ।রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি গ্রামের প্রতিটি আদিবাসী পরিবারকে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সাহায্য পেয়ে গ্রামবাসীরা উচ্ছ্বসিত।
চাষবাসই জামবনির মানুষের প্রধান জীবিকা।স্থানীয় কৃষকরা জানালেন,সরকারের এই অর্থ সহায়তায় বীজ, সার এবং চাষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনায় অনেক সুবিধা হবে।এক কৃষকের কথায়, “চাষ করেই সংসার চলে।সরকারি সাহায্য পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়।যদি পরব নাচের আয়োজনেও সরকার সাহায্য করে,তাহলে আমরা আরও উৎসাহ পাব।”
জামবনির মানুষ যেমন মাটির মানুষ, তেমনি সংস্কৃতিপ্রেমীও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁদের প্রাণের উৎসব ‘পরব নাচ’।দিনভর মাঠে পরিশ্রমের পর সন্ধ্যা নামলেই ঢোল,মাদল আর করতালের তালে জমে ওঠে নাচের আসর।তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবাই অংশ নেন এই মিলনোৎসবে।তাঁদের কাছে এই নাচ কেবল বিনোদন নয়,বরং সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।
একসময় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল এই ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, তবে এখন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আবার জেগে উঠছে পরব নাচের প্রাণ।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও গ্রামের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় পুরনো ঐতিহ্য ফিরছে নতুন রূপে।
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।আর্থিক সহায়তা, কৃষি উন্নয়ন ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মতো উদ্যোগে গ্রামের মানুষদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
জামবনি আজ এক নবজাগরণের পথে।কৃষি ও সংস্কৃতির সুন্দর মেলবন্ধনে গড়ে উঠছে এক নতুন উদাহরণ।গ্রামের মানুষদের মুখে একটাই কথা-“সরকার যদি পাশে থাকে,আমরা আরও দূর এগিয়ে যেতে পারব।”

