পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- আজ ঐতিহাসিক দিন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী মেয়ো রোড চত্বরে উপচে পড়েছে ছাত্র-যুবাদের ঢল। তপ্ত দুপুরেও হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, যুব-যুবতীদের চোখে মুখে ছিল অদম্য উৎসাহ, স্বপ্নে ভরা আগামীর প্রত্যয়। ব্যানার, পোস্টার, দলীয় পতাকায় ছেয়ে গিয়েছে গোটা চত্বর। আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে স্লোগানের জোয়ার — “জয় তৃণমূল, জয় মমতা।”
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছাত্র-যুবদের উন্মাদনা যে কোন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা যেন আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। তবে সব উত্তেজনার শিখরে পৌঁছাল সেই মুহূর্তে, যখন আজকের প্রধান বক্তা, রাজ্য রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি, বাংলার গর্ব, তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে পা রাখলেন।
নেত্রীকে এক ঝলক দেখার জন্য যেন উন্মুখ হয়ে ছিল গোটা জনসমুদ্র। তাঁর মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মুহুর্মুহু করতালি, স্লোগান আর জয়ধ্বনিতে কেঁপে উঠল মেয়ো রোড। ছাত্র-যুবদের আবেগে ভেসে গেল সমস্ত প্রটোকল। সেই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে উঠল — একজন নেত্রী, যিনি কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এক আদর্শ, এক প্রেরণা, এক আশ্রয়ও বটে।
নেত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার গুরুত্ব, ছাত্র-যুবদের শক্তি ও আগামী বাংলার রূপকার হিসেবে তাঁদের ভূমিকার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন,
“তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শান্তিপূর্ণ, উন্নত, ও প্রগতিশীল বাংলা। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি এক সামাজিক দায়িত্ব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত ছাত্র-যুবদের চোখে জল এনে দেয়। তিনি উদ্বুদ্ধ করেন সকলকে — পড়াশোনায় মনোযোগী হতে, সমাজ সচেতন হতে, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।
মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যাঁরা নেত্রীর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে জানান — তাঁদের লক্ষ্য শুধু রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নয়, বরং শিক্ষিত, সচেতন ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
অনুষ্ঠান শেষে, মেয়ো রোডে যখন ধীরে ধীরে নেমে এল সূর্যাস্তের আলো, তখনও ছাত্র-যুবদের চোখে মুখে ছিল একরাশ অঙ্গীকার। তাঁদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল নেত্রীর শেখানো পথের মন্ত্র —
“কাজ করো, লড়াই করো, মানুষের পাশে থাকো।”
এই প্রতিষ্ঠা দিবস যেন আরও একবার প্রমাণ করল — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ছাত্র-যুব শক্তির জাগরণ, বাংলার আগামীদিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।

