মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি:-আর মাত্র ক’দিন বাকি! বিশ্বকর্মা, দুর্গা ও কালীপুজোর আগমনে উৎসবের গন্ধে মাতবে গ্রামবাংলা। আর ঠিক তখনই প্রাণপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শোলা শিল্পীরা, বিশেষ করে ডাকের সাজ প্রস্তুতকারকরা। কাজের চাপে ভুলে গেছেন খাওয়া-দাওয়াও। দিন-রাত এক করে চলছে সাজ তৈরির কাজ।
ডাকের সাজ—একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প যা শোলা দিয়ে তৈরি হয়। শোলার উপর রঙচঙে জরি, রাংতা, চুমকি ও পুঁতি বসিয়ে দেবীর অলংকার তৈরি করা হয়। এক সময় এই সাজের উপকরণ বিদেশ থেকে ডাকযোগে আসতো, সেখান থেকেই নাম ‘ডাকের সাজ’। আজ ডাকব্যবস্থা বদলেছে, তবে নামটি থেকে গেছে।
এই শিল্পে দক্ষতার দরকার অনেক। চোখের সূক্ষ্মতা আর হাতের নিপুণতা ছাড়া সম্ভব নয় এই কাজ। পুজোর আগে বাড়তি চাহিদা থাকায় দিনরাত পরিশ্রম করতে হয় শিল্পীদের। তাঁদের ভাষায়, “রাত দুটো-তিনটেতেও কাজ থামে না। কোন দিন তো একেবারেই রাত জেগে কাটাতে হয়। তবুও যখন দেখি আমাদের তৈরি অলংকারে সেজে উঠেছে উমা, তখন মনটা ভরে যায়।”
অবশ্য এই কাজে লাভ বেশি হয় না। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। তবুও শিল্পীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শুধু একটুকরো আনন্দ আর আত্মতৃপ্তির খোঁজে—নিজের হাতে মাকে সাজানোর সুখে।
পুজোর আগমনে প্রতিটি ঘর, প্রতিটি হাত ব্যস্ত হলেও, এই শিল্পীদের ব্যস্ততা যেন একটু বেশিই। তাঁরা জানেন, প্রতিমার সৌন্দর্যের বড় একটি অংশ নির্ভর করে তাঁদের সৃষ্টির উপর।
শ্রম, শিল্প আর সাধনার মেলবন্ধনে এই ঐতিহ্যবাহী ডাকের সাজ আজও বেঁচে আছে বাংলার মাটিতে। পুজোর প্রস্তুতির এই ব্যস্ত দিনে শোলা শিল্পীদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমই মায়ের মুখে হাসি ফোটায়, আর পূজামণ্ডপে আনে শোভা ও ঐশ্বর্য।

