পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে ভেসে এল এক হৃদয়বিদারক খবর। মাত্র ৫২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন অসমের অন্যতম সাংস্কৃতিক সম্পদ, জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার, অভিনেতা এবং সমাজকর্মী জুবিন গর্গ। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র অসম তথা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
জানা গেছে, শনিবার জুবিনের মরদেহ দেশে ফিরবে। তবে অসমের মাটি স্পর্শ করবে রবিবার সকালে। তাঁর প্রয়াণে জোরহাটে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জুবিনের শেষকৃত্য যেন অসমেই সম্পন্ন হয় এবং তাঁর স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “দাহ এবং স্মৃতিসৌধ – দুটি বিষয়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছি। জুবিন অসমে পৌঁছানোর পরই আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
জুবিন গর্গ ছিলেন অসমের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কণ্ঠে ‘যা বলো তুমি’ কিংবা মায়া-র মতো গান শুধু অসম নয়, পুরো ভারতবর্ষে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি ছিলেন অসমীয়া, হিন্দি ও বাংলা গানের এক সেতুবন্ধনকারী শিল্পী, যাঁর কণ্ঠে লুকিয়ে ছিল হাজারো মানুষের আবেগ।
শুধু সংগীত নয়, জুবিন ছিলেন একজন সমাজসচেতন নাগরিকও। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি অসমের শিক্ষা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়েও সরব হয়েছেন। তাঁর এই বহুমাত্রিক অবদানের জন্যই তাঁকে অসমের ‘ন্যাশনাল আইকন’ হিসেবে গণ্য করা হতো।
তাঁর মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, এক অনুভব, এক প্রজন্মের আবেগের বিদায়। অসমের জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন জুবিন গর্গ। তাঁর গান, তাঁর কথন, এবং তাঁর সমাজসেবার আদর্শ বহু প্রজন্ম ধরে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
জুবিন গর্গ নেই, কিন্তু থেকে যাবেন তাঁর সৃষ্টি ও কর্মে- অসমের মাটিতে, মানুষের মনে, আর আমাদের চিরন্তন স্মৃতিতে।

