নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: আলোকসজ্জার কথা উঠলেই চন্দননগরের নাম শ্রদ্ধা আর গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। গঙ্গাপাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী শহরটি আজ বিশ্বজোড়া পরিচিত তার অনন্য আলোককারুকার্যের জন্য। বিশেষত জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগর রূপ নেয় এক আলোকময় স্বপ্নরাজ্যে। শহরের প্রতিটি অলিগলি, প্রতিটি ঘাট, আর প্রতিটি পুজো মণ্ডপ জেগে ওঠে অসংখ্য রঙিন বাতির ঝলমলে ছোঁয়ায়। এই আলোর উৎসব যেন শুধু দর্শন নয়, অনুভবেরও যেখানে শিল্প, ঐতিহ্য ও প্রযুক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
চন্দননগরের আলোকসজ্জার ইতিহাস প্রায় শতবর্ষ পুরোনো। ফরাসি আমল থেকেই এখানে বিদ্যুতের ব্যবহার শিল্পে পরিণত হয়েছে। আজ সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতায় তৈরি করেন বিস্ময়কর সব ট্যাবেলো কোথাও দেখা যায় পৌরাণিক কাহিনি, কোথাও স্বাধীনতা সংগ্রামের দৃশ্য, আবার কোথাও সমসাময়িক সামাজিক বার্তা। আলোর তারে বাঁধা এই গল্পগুলো নড়ে ওঠে সুরের সঙ্গে, যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিটি দৃশ্য।
এই আলোকসজ্জা শুধু পুজোর সাজ নয় -এটি চন্দননগরের শিল্পচেতনার প্রতীক। শত শত পরিবার জড়িত থাকে এই কাজের সঙ্গে, বছরের পর বছর তারা নিঃশব্দে রচনা করে চলেছেন আলোর ইতিহাস। প্রতিটি আলোর পেছনে লুকিয়ে থাকে এক শিল্পীর হৃদয়ের উষ্ণতা, তার শ্রম ও কল্পনার পরিধি।
প্রতি বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থী ভিড় জমান চন্দননগরে এই শোভাযাত্রা দেখতে। আলোর ঝলকে ভেসে যায় গঙ্গার ধারা, মুখরিত হয় শহর। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর এই আলোকসজ্জা আজ শুধুই উৎসব নয় এ এক শিল্প, এক ঐতিহ্য, এক আত্মপরিচয়ের দীপ্ত প্রতীক, যা বাংলার সংস্কৃতিকে আলোকিত করে তোলে সমগ্র বিশ্বমঞ্চে।

