নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: কালীপুজোর আনন্দে বাজির শব্দ যেন এক আলাদা উত্তেজনা যোগ করে। তবে পরিবেশ দূষণ রুখতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন গ্রিন বাজির ব্যবহারই অনুমোদিত। এই নির্দেশ মানতে গিয়ে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের বহু বাজি কারিগরই তৈরি করেছেন পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি। কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝেও শোনা যাচ্ছে তাঁদের কণ্ঠে একরাশ আক্ষেপ।
গ্রিন বাজির উৎপাদনে খরচ বেশি, অথচ বাজারে তার চাহিদা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষ এখনও আগের সেই ধোঁয়াওলা, বিকট শব্দওয়ালা বাজিকেই বেশি পছন্দ করেন। ফলে বিক্রি কম, লাভের অঙ্কেও টান। বহু কারিগর বলছেন, “নতুন প্রযুক্তি শিখতে সময় লেগেছে। খরচ বেড়েছে। কিন্তু লাভের মুখ এখনও ঠিক দেখা যাচ্ছে না।”
একজন কারিগর জানালেন, “আমরা তো আদালতের নিয়ম মেনে গ্রিন বাজি বানাচ্ছি, কিন্তু অনেকেই বাইরে থেকে বেআইনি বাজি এনে বিক্রি করছে। প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।”
তবে আশার কথা, ধীরে ধীরে হলেও সচেতনতা বাড়ছে। অনেক ক্রেতাই এখন গ্রিন বাজি খুঁজে নিচ্ছেন, পরিবেশের কথা ভেবে। সরকারি স্তর থেকে যদি আরও সাহায্য মেলে, সচেতনতা আরও ছড়ানো যায়, তবে গ্রিন বাজির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে বলেই মনে করেন অনেকে।
এই কালীপুজোতে বাজির ঝলকে আনন্দ থাকুক ঠিকই, তবে সেই আনন্দ যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়-এটাই কাম্য। আর সেই লক্ষ্যে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, সেই কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব।

