পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া এলাকায় নিখোঁজ যুবক লক্ষণ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে রবিবার রাতে পুলিশ রহস্যের পর্দা ফাঁস করে। সোমবার সকালে লক্ষণের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ নয়— খুন করা হয়েছে যুবককে। খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মগরা থানার তদন্তকারীরা এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করে স্থানীয় বাসিন্দা শিবু নামে এক যুবককে। পাশাপাশি আরও দুজনকে আটক করা হয় সন্দেহভাজন হিসেবে। পুলিশি জেরার মুখে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও সোমবার সকালে রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার পর ভেঙে পড়ে শিবু। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে নেয় যে, লক্ষণ চৌধুরীকে সে খুন করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বহুদিন ধরেই লক্ষণ ও শিবুর মধ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা চলছিল। সেই পুরনো বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষণকে। এরপরেই খুন করা হয় তাঁকে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, লক্ষণ শান্ত-স্বভাবের ছেলে ছিল, তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়েই কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন সকলে। অবশেষে পুলিশ খুনের কথা জানাতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বাসিন্দারা। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বর্তমানে তিন অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিবুর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মগরা থানার পুলিশ। পাশাপাশি, খুনের ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে তদন্ত।
এই খুনের ঘটনায় শুধু বাঁশবেড়িয়া নয়, গোটা হুগলি জেলায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শোকস্তব্ধ লক্ষণের পরিবার এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না, তাঁদের প্রিয়জন আর ফিরে আসবেন না।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

