পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো রাজ্য যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার রাতে দারুল জামাল গ্রামের উপর জঙ্গীগোষ্ঠীর এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সেনাও রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং এখানে একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। এই হামলার নৃশংসতা এবং হিংস্রতা নতুন মাত্রায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জঙ্গীরা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, এবং বিশেষ করে একটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে যা মানবতাকে লজ্জিত করেছে এক মহিলাকে প্রকাশ্যে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়। এমন অমানবিক আচরণ কেবল মৃত্যু নয়, মানসিকভাবে পুরো এলাকা ও জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নাইজেরিয়ার সরকার বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জোরকদমে চালাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সংঘর্ষে ঘরছাড়া মানুষদের নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু এই নির্মম আক্রমণ সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গীগোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ এবং তাদের উপর নজরদারির অভাব এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। বর্বরতার মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং একটি জাতির অগ্রগতির পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। দারুল জামালের এই রক্তাক্ত রাত প্রমাণ করে দিল— শান্তি আনতে কেবল নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, চাই মাটির কাছাকাছি থাকা কঠোর বাস্তবসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যতক্ষণ না তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ নাইজেরিয়ার মানুষ নিরাপদ নন।

