নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর ও শুভেন্দু অধিকারী।প্রকাশ্যেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক।২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটে কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে তৃণমূল।সেই শক্ত ভিতেই ফাটল ধরাতে পারে হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ,এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, মুসলিম সমাজের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত।উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।এই অভিযোগ তুলে তিনি নিজেকে ‘বিকল্প কণ্ঠস্বর’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।তাঁর নতুন দল যদি মুসলিম ভোটের একটি অংশও নিজেদের দিকে টানতে পারে, তবে তা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই আবহেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।গতকাল এক সভা থেকে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন,
“যে ভোট এতদিন ধরে একতরফা ছিল,সেখানে এখন বিভাজনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।”তিনি আরও বলেন, “চার মাস পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না।” তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তাঁর এই বক্তব্যের নিশানায় হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ও তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি সরাসরি মুসলিম ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে না পারলেও, তৃণমূলের ভোট কাটার যেকোনো উদ্যোগই বিজেপির জন্য পরোক্ষভাবে লাভজনক হতে পারে।ফলে হুমায়ুন কবীরের উত্থান রাজ্য রাজনীতিতে ‘কাটমানি’ নয়, বরং ‘ভোট কাটার’ নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও বিষয়টি প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ।দলের একাংশের বক্তব্য, “তৃণমূলের সামাজিক ভিত্তি মজবুত,বিচ্ছিন্ন কোনও উদ্যোগে তাতে ফাটল ধরবে না।”তবে ভিতরে ভিতরে যে অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে,তা অস্বীকার করছেন না রাজনৈতিক মহল।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনীতির ময়দানে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।

