নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ব্লকের আঁটপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আনরবাটি গ্রামে প্রায় আড়াইশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এক মহাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। এই পুজো শুধুমাত্র একটি দিন পালিত হলেও, এর মহিমা ও ঐতিহ্য অসাধারণ। এখানকার মানুষজন ও আশেপাশের এলাকাবাসীর কাছে যিনি “বড় মা” নামে পরিচিত, তিনি আসলে মা কালী। শ্যামা কালীর পুজোর আগের দিন, ভূত চতুর্দশী তিথিতে সূর্যাস্তের পর শুরু হয় এই বিশেষ পুজো।
নীল বর্ণা, দু-হাত বিশিষ্ট এই কালী প্রতিমাকে আনরবাটি গ্রামের প্রায় ৬০ জন যুবক কাঁধে করে বয়ে নিয়ে আসেন নির্ধারিত পূজাস্থলে। সেখানে মাটির বেদীতে মাকে অধিষ্ঠিত করা হয়, মাথার উপর তালপাতার ছাউনি দিয়ে তৈরি হয় অস্থায়ী মণ্ডপ। এরপর সারারাত ধরে চলে পুজো, অর্চনা, ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান। এখনও পর্যন্ত এই পূজায় বলি প্রথার প্রচলন রয়েছে, যা পুজোর প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলছে।
এই এক রাতের পুজো ঘিরে গোটা আঁটপুর ও আশেপাশের এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল মেলার চেহারায়। ভক্তদের ভিড়, আলোর রোশনাই, ঢাকের বাদ্যি ও প্রসাদের সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে আনরবাটি। বড় মা-র এই পূজোর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, একই সঙ্গে গ্রামে আরও নয়টি কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় – যেমন ছোট কালী, মেজ কালী, ছেলে কালী, ন্যাড়া কালী ইত্যাদি। একই রাতে, একই তিথিতে, একযোগে এই সব পূজাও সম্পন্ন হয়।
পরদিন সূর্যাস্তের আগেই বড় মাকে গ্রামের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়, তারপর একে একে বিসর্জন হয় বাকি কালী প্রতিমাগুলোর। বিসর্জনের মধ্য দিয়েই শেষ হয় আনরবাটি গ্রামের বাৎসরিক এই মহোৎসব। কারণ এই গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী, সারা বছরে আর কোনো কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় না। তাই এই এক রাতের পুজো ঘিরেই গোটা আনরবাটি গ্রামে জমে ওঠে আধ্যাত্মিক উৎসবের আবহ -যা শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য নিদর্শন।

