পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: বিধানসভা ভোট যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে একটাই প্রশ্ন-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এবারও ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হবেন, নাকি ফের কোনও চমক অপেক্ষা করছে? ২০২১ সালে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শেষমেশ পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তারপর উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকেই জিতে ফিরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। তাই ২০২৬-র বিধানসভা ভোটে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এই আবহেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ভবানীপুরে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, ভবানীপুরবাসী তাঁদের নেত্রীকে এখান থেকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে পাবেন। ভবানীপুরই তাঁর ঘর।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবানীপুর থেকেই ফের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী।
তবে এখানেই শেষ নয়। সুব্রত বক্সী আরও জানান, বাকি ২৯৩টি আসনের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জনসংযোগ, কর্মী রিপোর্ট ও সংগঠনের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা তৈরি হবে বলেই জানান তিনি। অর্থাৎ তৃণমূল এবার আগেভাগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে।
এদিকে, ভবানীপুরের বিজয়া সম্মিলনীতে এক অডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হন ‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গে। তাঁর কটাক্ষ, “বহিরাগতরা এসে বাংলার সংস্কৃতিকে আঘাত করছে। ভবানীপুরের মানুষ তাদের জায়গা দেখাবে।” এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভাজনের রাজনীতি করছেন। বাংলার বাইরে থেকে আসা মানেই কেউ শত্রু, এটা একটা বিপজ্জনক বার্তা।”
সব মিলিয়ে, মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরেই হবে কিনা তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁদের অবস্থান। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা-দলীয় তালিকায় মমতার নাম ভবানীপুরের পাশেই থাকে কিনা, না কি আবার কোনও চমক অপেক্ষা করছে।

