মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : বীরভূমের এক ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক স্থান হলো নলহাটির নলহাটেশ্বরী মন্দির। এটি সতীর ৫১টি সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম। সারা বছরই দেবী এখানে কালী রূপে পূজিত হন, তবে দুর্গাপুজোর সময় তিনি উমা রূপে পূজিতা হয়ে থাকেন। বহু যুগ ধরেই এই রীতি চলে আসছে এই মন্দিরে।
এই মন্দিরের সঙ্গে শুধু ধর্মীয় নয়, যুক্ত রয়েছে প্রতিটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস এবং অলৌকিক কাহিনিও। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর – দূরান্তের ভক্তরাও এই সময় মায়ের দর্শনে মন্দিরে আসেন।তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করার জন্য। অষ্টমীর দিন দেবীকে ৫১ রকম ভোগ নিবেদন করা হয়।
নলহাটেশ্বরী মন্দির কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, সতীপীঠের সংখ্যা ৫১ সেইজন্য আমরা অষ্টমীর দিন দেবীকে ৫১ রকম ভোগ নিবেদন করি। মা এখানে ‘সৌভাগ্যের দেবী’ হিসেবে পূজিত। ভক্তদের বিশ্বাস, মন থেকে প্রার্থনা করলে মা তা অবশ্যই পূরণ করেন।
দেশ-বিদেশ থেকে বহু ভক্ত মায়ের উদ্দেশ্যে চিঠি লেখেন। সেই চিঠি পুজোর সময় মাকে পড়ে শোনানো হয়, এবং পরে তাঁদের প্রসাদ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রহ্মাণী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির এক সময় নলরাজাদের গড় ছিল। পাথরের পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন মন্দিরের পিছনেই রয়েছে ‘আনার সাহেবের মাজার’। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই স্থান রামায়ণের কাহিনির সঙ্গেও নাকি যুক্ত।
মন্দিরের এক সেবাইত জানান, পুজোর চারদিন মাকে ডাকের সাজে সজ্জিত করা হয়। মাথায় সোনার মুকুট, গায়ে নানা রকম অলঙ্কার। দশমীর রাতে ভক্তদের ভিড়ে মন্দির চত্বর উপচে পড়ে। ধোপাপাড়া ও কামারপাড়ার দেবী শোভাযাত্রা সহকারে মা নলহাটেশ্বরীকে কাঁধে তুলে আনা হয়। মায়ের ‘পার্বতী’ রূপের সঙ্গে দেখা করানো হয়। দুই মূর্তিকে ঘিরে তৈরি হয় এক বিশাল আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
বীরভূমে রয়েছে সতীর পাঁচটি পীঠ
দেবী নলাটেশ্বরী (নলহাটি),দেবী
কঙ্কালেশ্বরী, দেবী নান্দিকেশ্বরী,দেবী ফুল্লরা ও দেবী মহিষমর্দিনী। এছাড়াও রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধপীঠ – তারাপীঠ মন্দির, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়। তারাপীঠে পুজো দিয়ে অনেকেই যান এই নলহাটেশ্বরী মন্দিরে।আপনিও চাইলে ঘুরে আসতেই পারেন এই সতীপিঠে ।

