পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা আরএনবি: রাজনীতির মঞ্চে ফের উত্তাপ ছড়াল বীরভূমে। জেল হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম রাজনৈতিক মহলে বারবার উঠে এসেছে। আর এবার সেই অনুব্রতের কণ্ঠস্বরেই শোনা গেল এক বিস্ফোরক বার্তা—যা নাম না করেই নিশানা করল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।
জেল থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে অনুব্রত মণ্ডল লিখেছেন, “কেউ বলে বেগম, কেউ বলে খালা… লজ্জা লাগে না! এত বড় বড় কথা বলার আগে একটু আয়নায় মুখ দেখা উচিত।” তাঁর এই বক্তব্য যে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই ইঙ্গিত করছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্ন নামে কটাক্ষ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কখনও বেগম, কখনও আবার খালা বলে সম্বোধন করে রাজনৈতিক সৌজন্যকে ভেঙেছেন বলেই অভিযোগ তৃণমূলের। সেই প্রেক্ষিতেই অনুব্রতের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অনুব্রতের বার্তা আরও বলছে, “মানুষের মন জয় করার জন্য কাজ করতে হয়, অপমান করে নয়। আমাদের নেত্রী বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য লড়াই করছেন। যারা কিছু করতে পারেনি, তারাই শুধু অপমান করতে জানে।” এখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা এবং শুভেন্দুর প্রতি তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট।
বীরভূমের এই তৃণমূল নেতার এমন বার্তা সামনে আসতেই শাসক শিবিরে নতুন করে চাঙ্গা মনোবল। দলের অনেকে বলছেন, “অনুব্রত জেলে থেকেও দল এবং নেত্রীকে নিয়ে ভাবেন। তাঁর এই বার্তা আমাদের লড়াইয়ে নতুন শক্তি দেবে।”
অন্যদিকে, বিজেপি শিবির এই বার্তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, আইনের জালে জড়ানো একজন অভিযুক্ত নেতার কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এমন বার্তা যে একপ্রকার রাজনৈতিক কামব্যাক এর ইঙ্গিত—তা বলাই বাহুল্য। অনুব্রতের এই নাম না করে আক্রমণ কৌশলই হয়তো আগামী দিনে তৃণমূলের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

