সায়ন্তন মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা; বৃহস্পতিবার এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত বোয়িং-৭৮৭ বিমানটিতে মজুদ ছিল প্রায় ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি। ফলে ভেঙে পড়ার সময় তীব্র বিস্ফোরণ হয় বিমানটিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সে সময়ে ওই বিমান ও তার ধ্বংসস্তূপের আশপাশের জায়গার তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। আর তাতেই পুড়ে কাঠ বিমানে বসে থাকা যাত্রীদের দেহ। তাই যাত্রী-সহ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের কাছে ডিএনএ নমুনা চেয়েছে প্রশাসন। বুকে পাথর চাপা দিয়ে প্রিয়জনের দেহাবশেষটুকু পেতে মেডিক্যাল কলেজের সামনে এখন লম্বা লাইন। সেই ডিএনএ নমুনার লাইনে দেখা মিলল আট মাসের শিশুরও। সেদিন বিমানে ছিল শিশুর হতভাগ্য পিতাও। তাই তাঁর দেহাবশেষ শনাক্ত করতে শেষ ভরসা ওই খুদের ডিএনএ নমুনা।
ব্রিটেনের বাসিন্দা মহম্মদ আদনান, স্ত্রী মানতাশা ও আট মাসের ছেলে ইব্রাহিমকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ইদ-উল-আদহা পালনের জন্য আহমেদাবাদে ফিরেছিলেন। ফেরার জন্য ২১ জুনের টিকিট কাটা থাকলেও লম্বা ছুটির আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি কর্মক্ষেত্রে ফিরতে বৃহস্পতিবারের লন্ডন গ্যাটউইকগামী ফ্লাইট AI171-এ একারই টিকিট কাটেন। অভিশপ্ত সেই বিমানে চেপে তাঁর আর গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে অবতরনের ১ মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিমানটি।ভয়াবহ এই ঘটনায় ২৩১ জন যাত্রী-সহ ১২ জন ক্রু মেম্বারই নিহত। মৃতের তালিকায় খুদের বাবা আদনানেরও নাম রয়েছে।
খুদে ইব্রাহিমকে কোলে নিয়ে নমুনা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর মামা নবীল বলেন, ‘এইটুকু বাচ্চার রক্ত ছাড়া তো ওর বাবাকে খুঁজে পাওয়ার কোনও উপায় নেই। এখানে আদনানের পরিবারের কেউ নেই। ওঁর স্ত্রী মানতাসার নমুনায় তো কাজ হবে না, তাই এই দুধের শিশুকে এখানে আনা।’ নিহতের আত্মীয়ের থেকেই জানা গেল, স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথরের মূর্তির মতো অবস্থা মানতাসার। খুদে ইব্রাহিমকে এক মুহূর্ত কোলছাড়া করতে চাইছেন না তিনি। অনেক বুঝিয়ে খুদেকে নিয়ে নমুনা জমা দিতে এসেছেন তাঁর মামা।

