নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : পুলিশ মানেই কড়া ধমক, ভয় বা শাস্তি এমন ধারণা বহু মানুষের মনে। কিন্তু সেই পুলিশই যে হতে পারে শিশুদের হাসির কারণ, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। আসন্ন দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বালুরঘাট জিআরপি থানার পুলিশ কর্মীরা এক অভিনব উদ্যোগে শামিল হলেন। আর তাতেই খুশিতে আত্মহারা হলেন এলাকার অগণিত খুদে পড়ুয়া।
শুধু আইন রক্ষা নয়, সমাজের পাশে দাঁড়ানোও পুলিশের দায়িত্ব এই বোধ থেকেই এগিয়ে এলেন বালুরঘাট জিআরপি থানার ওসি রতন সরকার এবং তাঁর সহকর্মীরা। থানার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, থানার সঙ্গে যুক্ত উইনার্স এডুকেশন ক্লাসে পড়া প্রায় ৪০ জন দুঃস্থ শিশুদের হাতে এবারের দুর্গাপুজোর আগে তুলে দেওয়া হবে নতুন জামাকাপড় ও জুতো। তবে বিশেষত্ব হল এই পোশাক কেবল দেওয়া নয়, বরং তাদের নিয়ে যাওয়া হয় শহরের এক নামী শপিংমলে, যেখানে তারা নিজেদের পছন্দ মতো জামাকাপড় বেছে নেয়।
সাধারণত বিভিন্ন সংস্থা বা সংগঠনের তরফে পুজোর আগে শিশুদের জামাকাপড় বিতরণ করা হলেও, সেখানে থাকে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা। সাইজ অনুযায়ী পোশাক মেপে হাতে তুলে দেওয়া হয়, শিশুর নিজের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন থাকে না। কিন্তু বালুরঘাট জিআরপি থানার এই উদ্যোগে খুদেদের মনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন আনন্দ। নিজের ইচ্ছামতো নতুন জামা, প্যান্ট বা জুতো কেনার সুযোগ পেয়ে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে অকৃত্রিম হাসি।
শুধু জামাকাপড় নয়, ষষ্ঠীর দিন এই পড়ুয়াদের নিয়ে বিশেষ পুজো-পরিক্রমার আয়োজনও করবে জিআরপি থানার পুলিশ। শহরের এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবে শিশুরা। পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, আমরা চাই এই পড়ুয়াদেরও যেন মনে হয়, তারাও অন্য সবার মতোই পুজোর আনন্দে সামিল।
গত দুই বছর ধরে বালুরঘাট স্টেশনে রবিবারের দিন পুলিশ পরিচালিত উইনার্স এডুকেশন ক্লাসেস চলছে। প্রায় ৪০ জন শিশু সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা করে। এবার সেই পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটাতে পুলিশ কর্মীরাই নিজেদের বেতনের টাকা থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আরও কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী।
এদিন শপিংমল থেকে নতুন জামাকাপড় হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে শিশুদের চোখ। কারও হাতে নতুন শার্ট, কারও হাতে পছন্দের ফ্রক, আবার কারও হাতে ঝকঝকে জুতো। পুলিশ কাকুদের সঙ্গে ছবি তুলে আনন্দ ভাগ করে নেয় তারা।
স্থানীয় মানুষেরাও পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, এমন কাজ মানুষকে পুলিশের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। সমাজে পুলিশ শুধু আইন রক্ষক নয়, একজন অভিভাবকের মতোও পাশে থাকতে পারে। বালুরঘাট জিআরপি থানার ওসি রতন সরকার বলেন, দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই আমাদের এই ছোট্ট চেষ্টা। পুজোর সময় প্রত্যেক শিশুই নতুন জামা পরে আনন্দ করতে চায়।
আমরা চাই আমাদের এই পড়ুয়ারা যেন বঞ্চিত না হয়। সেই সঙ্গে ষষ্ঠীর দিন তাদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখানোরও ইচ্ছে আছে।
পুজোর আগে এই অনন্য উদ্যোগে জিআরপি থানার পুলিশ আবারও প্রমাণ করল, মানবিকতার আলো ছড়াতে পারলে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাস ও ভালোবাসা জন্মানো সম্ভব।

