পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা,হাওড়া:- সবুজ ঘেরা উদ্যান আজ পরিবেশ থেকে লুপ্ত প্রায় যার ফলে শহরগুলোতে বহুতল বা ফ্ল্যাটবাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। গাছপালা হ্রাস পাবার ফলে পরিবেশের হয়ে উঠছে ক্ষতিকর। গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। ফ্ল্যাটবাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবুজ আচ্ছাদন কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, বনভূমি কমে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ছে এবং মাটির ক্ষয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া, গাছপালা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণও কমে যেতে পারে, যার ফলে শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, ফ্ল্যাটবাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শহুরে পরিবেশকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। গাছ কমে গেলে পরিবেশের উপর বেশ কিছু বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার মধ্যে প্রধান হল কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের অভাব, বন্যা, ভূমিধস, মাটির গুণমান হ্রাস, এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া।
গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে নেয় এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। যখন গাছ কমে যায়, তখন কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে বৃদ্ধি পায়, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং global warming এর কারণ।
গাছপালা বৃষ্টিপাত আকর্ষণ করে এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গাছ কেটে ফেলার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পেতে পারে এবং মাটি তার জল ধারণ করার ক্ষমতা হারায়, যার ফলে বন্যা এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে। গাছপালা মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং উর্বরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গাছ কমে গেলে মাটির ক্ষয় বাড়ে, যা কৃষি কাজের জন্য ক্ষতিকর। গাছ কমে গেলে বন্যপ্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারায় এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে। এছাড়াও, গাছপালা বাতাস থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ যেমন সালফার ডাই অক্সাইড এবং কার্বন মনোক্সাইড শোষণ করে বাতাসকে পরিষ্কার রাখে। বৃক্ষ ক্রমশ হ্রাস পেলে বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পায় । সংক্ষেপে, গাছ কমে গেলে পরিবেশের উপর একটি মারাত্মক প্রভাব পড়ে এবং এটি আমাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।

