সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: দশমীর সকাল মানেই সিঁদুরখেলা, মিষ্টিমুখ আর চোখের জলে বিদায়।দশমীর সকালে আন্দুলের দুইল্যার ভট্টাচার্য বাড়িতে দুর্গা বিদায়ের রীতি একটু আলাদা। এখানে মা দুর্গার সামনে রাখা হয় এক বাটি পান্তা ভাত। এই প্রথা চলছে প্রায় ৪২১ বছর ধরে। ভট্টাচার্য পরিবারে দেবীকে ঘরের মেয়ের মতোই মানেন।
তাই প্রতিদিন সকালে তাঁকে দেওয়া হয় এক ঘটি জল আর বেল গাছের কাণ্ড দাঁতন হিসেবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুজোর সব কাজ হয় বাড়ির গৃহস্থালি ভঙ্গিতে – ভোগ, আরতি, পুজো সবকিছুতেই থাকে পরিবারের আন্তরিকতা।
ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত চলে এই পুজো। প্রথমে হয় বেলতলায় পুজো, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান। নবমী পর্যন্ত দেবীকে দেওয়া হয় আমিষ ভোগ – নয় রকম ভাজা আর নানা মাছের পদ। সন্ধিপুজোর সময় হয় ছাগবলি, নবমীতে কুমারী পুজোও হয়।
দশমীর দিনে মায়ের সামনে রাখা হয় পান্তা ভাত, তারপর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। বাড়ির বৌ ও আশপাশের মহিলারা এই আনন্দে যোগ দেন। এরপর উমাকে বিদায় জানিয়ে শেষ হয় পুজো।
ভট্টাচার্য পরিবারের এই পুজোর ইতিহাস অনেক পুরোনো। তাঁদের পূর্বপুরুষরা একসময় বর্ধমান রাজার পুরোহিত ছিলেন। রাজা তাঁদের আন্দুলের দুইল্যায় জমি দেন, সেখান থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। এখন আর সেই আগের জাঁকজমক নেই পুরোনো বাড়ির ছাদ ভাঙছে, ঠাকুরদালানের প্লাস্টার খসে পড়ছে। তবুও পরিবার আর ঐতিহ্যের টানে আজও এই পুজো ঘিরেই আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই।
এভাবেই পান্তা ভাতে বিদায় নিয়ে মা দুর্গা প্রতিবছর ফিরে যান একটুকরো ঘরের আদর, আবেগ আর ভালোবাসা।

