সুরোজ ছড়ি,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতাঃ-পাকিস্তানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটে। দেশের মোট ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। জনগণের এক বড় অংশ আজও মৌলিক প্রয়োজন—খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা—এসবের অভাবে জীবন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দেশ ও দেশের বাইরে।
জানা গেছে, শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি বছরে প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। বাজেট পেশ হওয়ার আগেই এই তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, পাকিস্তান তার সামরিক খাতে আড়াই হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত বরাদ্দ রাখতে পারে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ গত দশ বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬,০০৭ বিলিয়ন রুপিতে। ২০১৪-১৫ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৩৮০ বিলিয়ন রুপি। এই বৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ৫১,৫১৮ বিলিয়ন রুপি এবং বৈদেশিক ঋণ ২৪,৪৮৯ বিলিয়ন রুপি। এই বিপুল ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের একটি বড় অংশ বাজেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের উন্নয়নমূলক কাজ, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে পাকিস্তানকে সামনে আরও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতারমুখোমুখি হতে হবে। এর প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে নয়, সমাজের সব স্তরে পড়বে—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সবকিছুতেই।

