সায়ন্তন মণ্ডল,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা; ফের এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড দিল্লিতে। দয়ালপুর এলাকায় একটি বন্ধ ঘরে থাকা স্যুটকেস থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জিটিবি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পাশাপাশি, ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর মেয়ে এলাকাতেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে বরফ দিতে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ পরেও সে ফিরে না আসায়, স্বাভাবিকভাবেই খোঁজাখুজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় একজন জানান মেয়েটি কাকার বাড়িতে যায়নি, ২০০ মিটার দূরে একটি বহুতলে শিশুটিকে যেতে দেখেছেন তিনি। শোনামাত্রই ওই বহুতলে ছুটে যান নাবালিকার বাবা। সেখানে দোতলার একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে একটি সুটকেসে মেয়েকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপরে নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নাবালিকার বাবা বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ। তালা ভাঙার পর, আমি একটি স্যুটকেস দেখতে পাই যা নড়ছিল। আমি সেটি খুলে ভেতরে আমার মেয়েকে দেখতে পাই। আমি তাকে কাছের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাই। কিন্তু তারা আমাকে আরও বড় হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।নির্যাতিতার বাবা আরও জানান, তার মেয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।যার জেরে অচেতন হয়ে পড়েছিল। তাঁর কথায়, ‘আমরা তাকে দ্রুত কাছের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাই, যেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরীক্ষা পর তারা দেখতে পান যে মেয়েকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।’ ডিসিপি’র মতে, প্রাথমিক তদন্তে, ডাক্তাররা নির্যাতিতার মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন ৷ তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলেও প্রাথমিক অনুমান চিকিৎসকদের। ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং ফরেনসিক ল্যাবরেটরির দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক বা একাধিক অভিযুক্তদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার করার জন্য বেশ কয়েকটি SIT গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে ঘটনাস্থলের চারপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠছে স্থানীয়দের তরফে।পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে আধা সামরিক বাহিনীও।অন্যদিকে, এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, দিল্লির শাসক দল বিজেপিকে নিশানা করেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। তাদের অভিযোগ, বিজেপির আমলে দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রশ্ন, কোথায় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা? কোথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ? বিজেপি আমলে নাবালিকাও সুরক্ষিত নয়। দিল্লি মহিলারা সরকারের থেকে জবাব ও বিচার চাইছে।

