নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- কলকাতার পরিবহণ মানচিত্রে নতুন পালক যুক্ত হয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া নয়া মেট্রো পরিষেবার হাত ধরে। শুরু থেকেই নতুন রুটে যাত্রীদের বিপুল সাড়া নজর কেড়েছে। প্রতিদিন অফিসযাত্রী থেকে ছাত্রছাত্রী— সকলে ভিড় জমাচ্ছেন নতুন মেট্রোতে। ঝকঝকে কামরা, দ্রুত যাত্রা ও যানজট এড়িয়ে সময় বাঁচানোই এখন সাধারণ মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। ফলে প্রথম থেকেই যাত্রীসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় খুশি মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চালুর প্রথম সপ্তাহেই যাত্রীসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন এই নতুন রুটে। মেট্রো রেলের এক কর্তা জানিয়েছেন, “যেভাবে মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, তা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে শহরবাসীর কাছে এই পরিষেবা কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।”
তবে এই সফলতার আঁচ পড়েছে অন্য পরিবহণে। বিশেষ করে বাস পরিষেবায়। আগে যে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে অফিস পৌঁছাতেন, তারাই এখন মেট্রোর দিকে ঝুঁকছেন। ফলে অনেক রুটের বাসে ভিড় কমতে শুরু করেছে। এক বাসকর্মীর কথায়, “আগে সকালে অফিস টাইমে গাড়ি ভর্তি থাকত, এখন খালি আসন নিয়েই গাড়ি চলছে। এতে আয় কমছে, চিন্তা বাড়ছে।”
যাত্রীদের মতে, বাসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিকে আটকে থাকার থেকে মেট্রো অনেক বেশি সুবিধাজনক। এক যাত্রী বলেন, “পথে প্রায় অর্ধেক সময় বেঁচে যাচ্ছে। সুরক্ষিতও মনে হচ্ছে।”
মেট্রো বাড়ছে মানেই শহরের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। দূষণ কমা থেকে শুরু করে ট্রাফিকের চাপ হ্রাস— সবদিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এরই মধ্যে বাসকর্মীদের দাবি, সরকার ও প্রশাসনের উচিত হবে বাস পরিষেবা টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া।
অতএব, নতুন মেট্রো পরিষেবায় যেমন শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে, তেমনই কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাসকর্মীরা। শহরের পরিবহণের এই পালাবদল আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

