নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি:- এককালে শীতকালে সাঁতরাগাছি ঝিল মানেই ছিল পাখিপ্রেমীদের উৎসব। সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া থেকে শুরু করে হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত নানা দেশ থেকে শীতের অতিথি পাখিরা ভিড় জমাত এই জলাশয়ে। নানারকম হাঁস, বক, চখাচখি, ল্যাপউইং কিংবা গার্গানির মতো বিদেশী অতিথির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠত গোটা অঞ্চল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নগরায়নের চাপে সেই ছবিটাই দ্রুত বদলাচ্ছে।
বিদেশী পাখির আনাগোনা কমছে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি, গত এক দশকে সাঁতরাগাছি ঝিলে বিদেশী পাখির সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। আগে যেখানে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার অতিথি পাখি আসত, সেখানে এখন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দুই হাজারে।
মূল কারণ নগরায়ন ও দূষণ,ঝিলের চারপাশে বহুতল নির্মাণ, নর্দমার জল মিশে যাওয়া এবং জলের উপর ভাসমান জলে-জমা আবর্জনা পাখিদের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। পাশাপাশি পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখিদের জন্য প্রয়োজন নিরিবিলি পরিবেশ, যা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের বক্তব্য অভয়ারণ্যের মতো সাঁতরাগাছি ঝিলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে পরিবেশবিদ অমল দত্ত বলেন, “এই ঝিলটি শুধু পাখিদের বিশ্রামের জায়গা নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু অযাচিত নগরায়ন ও জলের গুণমান নষ্ট হওয়ায় পাখিরা বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে নিচ্ছে।”
প্রশাসনের উদ্যোগ হাওড়া জেলা প্রশাসন ও বনদপ্তর দাবি করেছে, তারা ঝিল পরিষ্কার এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পাখিরা বিরক্ত না হয়। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না হলে বিদেশী পাখির আগমন একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাখির আনাগোনা কমে যাওয়ায় শীতকালের উৎসবের আমেজও হারিয়ে যাচ্ছে। আগে দেশবিদেশ থেকে পর্যটক আসতেন ছবি তুলতে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভালো প্রভাব পড়ত। এখন সেই রঙিন দৃশ্য প্রায় অতীত।
এককালে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পাখি-স্বর্গ সাঁতরাগাছি ঝিল আজ নগর আয়নের যুগে হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ। পরিবেশপ্রেমীরা সতর্ক করছেন, এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে বিদেশী পাখিরা একেবারেই পথ হারাবে এই ঝিলের।

