পায়েল পাখিরা, হাওড়া:– সোমবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে, স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারান। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ২০ জন জানানো হলেও, চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুসারে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পাইলটসহ মোট ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭১ জন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলপড়ুয়া শিশু। আহতদের বয়স সাধারণত আট থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা না গেলেও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিনে তৈরি এফ-৭ বিজেআই যুদ্ধবিমানটি সম্ভবত যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এই দুর্ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন এক মাস আগেই ভারতের আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে, যাতে ২৬০ জন প্রাণ হারান। সেই বিমানটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরপরই একটি মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
জাতীয় শোক ঘোষণা
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “বিমান বাহিনীর সদস্য, মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা জাতির পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।”
১৯৮৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা
এই দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান ঝড়ের কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
ঢাকায় সোমবারের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে অন্তত ২৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এই রোগীদের ICU ও HDU তে রাখা হয়েছে এবং বারবার পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশকে সকল সম্ভাব্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ও আহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।”

