পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- কাশ্মীরে শহিদ দিবস ঘিরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। সোমবার সকালে শ্রীনগরের শহিদ সমাধিস্থল ‘মাজার-ই-শুহাদা’-র সামনে দেখা দিল উত্তেজনা। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ ফাতিহা পাঠ করতে যান শহিদদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ সেখানে তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, পাঁচিল টপকে সেখানে প্রবেশ করতে দেখা যায় ওমরকে।
ওমর নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, তিনি শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন,
“আমি কোনও বেআইনি কাজ করছিলাম না। ফাতিহা পাঠ করাই কি অপরাধ? যারা নিজেদের আইনরক্ষক বলে দাবি করেন, তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই—আমাদেরকে কোন আইনের আওতায় আটকে রাখা হয়েছিল?”
উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই মহারাজা হরি সিং-এর ডোগরা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি। তাঁদের স্মরণেই প্রতিবছর পালিত হয় শহিদ দিবস। তবে এবছর উপত্যকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই অনুষ্ঠান পালনে অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে শীর্ষস্থানীয় বহু নেতাকেও আটকে রাখা হয় নিজ নিজ বাসভবনে। ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গতকাল তাঁকে বেরোতে দেওয়া হয়নি, বাড়ির গেটে বাঙ্কার বসিয়ে দেওয়া হয়।
সোমবার সকালে তিনি কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই বেরিয়ে পড়েন। শহরে পৌঁছনোর পর পুলিশ ফের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নওহাটা চকে ওমরের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়, এমনকি তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের মারধরেরও চেষ্টা করা হয়।
ওমর আরও বলেন,
“ওরা নিজেদেরকে আইনরক্ষক ভাবে, অথচ আজও আমাদের পথ আটকাল। বলেছিল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যাবে না। আমরা কি কারও দাস? যদি কেউ আমাদের দাস করে রাখতে চায়, তবে তা জনগণ—পুলিশ বা প্রশাসন নয়।”
ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতার অভিযোগ, নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের দলীয় পতাকা ছিঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তা সত্ত্বেও তাঁরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফাতিহা পাঠ করেন।
এর আগে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল যে শহিদ দিবসের কোনও জমায়েত বা অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না, এবং কেউ তা করার চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন,
“১৩ জুলাই আমাদের জন্য জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো। সেই শহিদরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। তাঁদের আজ শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।”
শুধু ওমর নন, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং পিপলস কনফারেন্সের সাজাদ লোনও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

