সুইতা পাল,নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া : এই বছর ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ এমনভাবে পড়েছে যে বিশ্বকর্মা পুজো ও দুর্গাপূজার মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম। সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর পর কিছুটা বিরতি থেকে থাকে, সেই সময়েই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এবারে সেই সুযোগ তেমনভাবে নেই, ফলে শিল্পী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের উপর একযোগে উৎসবের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে কুমোরটুলি এলাকার মৃৎশিল্পীরা সমস্যায় পড়েছেন। আগে বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি শেষে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে দুর্গামূর্তি গড়ার কাজ মন দিয়ে শুরু করতে পারতেন। এবার সেই সময় কমে যাওয়ায় অনেকেই বলছেন, “একসঙ্গে দু’টি উৎসব সামলানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” অনেক শিল্পী বিশ্বকর্মা মূর্তি কম তৈরি করছেন যাতে দুর্গামূর্তির কাজ সময়মতো শেষ করা যায়। এতে ঐতিহ্যগত বিশ্বকর্মা পুজোর রূপেও কিছুটা ভাঁটা পড়েছে।
শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে অফিস-কারখানায় বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন, আর তার সাথেই পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার খুঁটি পুজো, মণ্ডপ নির্মাণ, থিমের কাজ ইত্যাদি। এতে সময় ও অর্থের উপর একসাথে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, আলাদা করে কোনও উৎসবের আবহ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। ব্যস্ততা এবং ক্লান্তির কারণে অনেক জায়গায় পূজোর আয়োজনেও কিছুটা খামতি দেখা যাচ্ছে।
বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। উৎসবের আগে সাধারণত মানুষ নতুন জামাকাপড়, শাড়ি, গয়না ও সাজসজ্জার সামগ্রী কেনেন। কিন্তু এবার দু’টি বড় উৎসব প্রায় পাশাপাশি হওয়ায় খরচের চাপ বাড়ছে। ফলে অনেকেই বেছে বেছে কেনাকাটা করছেন। দোকানদারদের মতে, বিক্রিতে কিছুটা মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়াও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এর প্রভাব পড়ছে। নাটক, গান, নৃত্য কিংবা থিম পরিকল্পনার জন্য যে সময় দরকার, তা ঠিকমতো মিলছে না। উৎসব মানে শুধুই অনুষ্ঠান নয়, তার সাথে জড়িয়ে থাকে আবেগ, প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ— এই বছর সেই আবহ কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

