নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: শীতকাল মানেই বাঙালির জীবনে উৎসবের মরশুম।আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পৌষ পার্বণ।নতুন চাল,খেজুর গুড় আর নানা রকম পিঠে-পুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আবেগ, স্মৃতি ও পারিবারিক বন্ধন।তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আবেগের রঙ অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে।মানুষ এখন খুবই ব্যস্ত,তাই সেই ভাবে আর পৌষ – পার্বণের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না।
এক সময় পৌষ পার্বণ মানেই ছিল বাড়ির উঠোনে ঢেঁকির শব্দ।ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চাল ভাঙার ছন্দে মুখর থাকত পাড়া-প্রতিবেশিরা।পার্বণ এলেই পাড়ায় পাড়ায় বেরিয়ে পড়ত শীল কাটানোর মানুষজন।কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে থাকত নানারকম শীল কাটার সরঞ্জাম।তাদের ডাক শুনে বাড়ির গৃহিণীরা শীল-নোড়া হাতে বেরিয়ে পড়তেন।কোথাও মা-ঠাকুমারা ধামায় ভেজানো চাল নিয়ে ঢেঁকির খোঁজে বেরোতেন,সে ছিল এক অন্যরকম সামাজিক মিলনক্ষেত্র।
কিন্তু সময় বদলেছে।আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে গেছে ঢেঁকির সেই ছন্দ। ধীরে ধীরে কমেছে শীল-নোড়ার ব্যবহারও।বর্তমানে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এই প্রাচীন উপকরণ ব্যবহার করেন। শহর তো বটেই, গ্রামবাংলার বহু জায়গাতেও ঢেঁকি এখন অতীতের স্মৃতি মাত্র।
তার জায়গা নিয়েছে আধুনিক মিক্সচার মেশিন।সহজ, দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন এই সুবিধার হাত ধরেই প্রায় বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি ও শীল-নোড়া।যদিও আজও কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে দু-চারটি ঢেঁকি চোখে পড়ে,তবু তা যেন হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যের শেষ চিহ্ন।
পৌষ পার্বণের পিঠে-পুলির স্বাদ আজও বাঙালির জীবনে অমলিন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় – স্বাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই সংস্কৃতি।সেই মিলন ও পরিশ্রমের গল্প কি মনে রাখবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ?নাকি ঢেঁকির শব্দ আর শীল-নোড়ার ঘর্ষণে যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল, তা আজ শুধু স্মৃতির পাতাতেই বন্দি থাকবে?

