নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: অনুষ্ঠান বাড়ি তো আমরা সকলেই যাই। সেটা বিয়ে বাড়ি হোক বা অন্নপ্রাসন।কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি শাল পাতার কথা।শাল পাতার থালা বললেই মনে পড়ে যায় ছোটবেলার কথা।পড়ার বা বাড়ির যে কোনো অনুষ্ঠান মানেই শাল পাতার তৈরি থালা।এ যেন ছিল একটা আলাদাই নস্টালজিয়া।সেই পাতার এক আলাদাই গন্ধ,যা রসনার তৃপ্তিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।সেই স্বাদ বা ঘ্রাণ নতুন প্রজন্ম কতটা পেয়েছে ,তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই শাল পাতার থালা আসে কোথা থেকে? কিভাবেই বা তৈরি হয় এই থালা?
চলুন তাহলে একটু উঁকি দিয়ে আসি পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল মহলে।প্রত্যন্ত গ্রাম গোবরু,সেখানকার মানুষজন তৈরি করেন এই থালা।তাদের কাছে এটা শুধু পণ্য নয়,বরং জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।ভোরবেলা থেকে গ্রামের পুরুষ – মহিলা নির্বিশেষে সকলেই জঙ্গলে ছুটে যান শাল পাতার খোঁজে।সেখান থেকে যত্ন করে মজবুত ভালো পাতা সংগ্রহ করেন।খুব সাবধানে সেই পাতা বাড়িতে এনে রোদে শুকনো করেন।শুকিয়ে নেওয়ার পর পাতা গুলি আরও শক্ত ও টেকসই হয়ে যায়।তারপর সেগুলি একটার ওপর অন্যটা সাজিয়ে সেলাই করতে বসেন।এই সেলাইয়ের কাজ টা সম্পূর্ণ করেন গ্রামের মহিলারাই।
সূচ, সুতো কিংবা মেশিন যার বাড়িতে যেটা থাকে তাই দিয়েই তৈরি করেন বাটি এবং থালা।এসবের পিছনে আছে ওই গ্রামের মানুষদের কায়িক শ্রম ও যত্ন।তাই ওই থালায় সাজানো খাবার খেতে এত সুন্দর লাগে।
আজ সবকিছুই হয়ে গেছে কৃত্রিম।তাই আগের মতো আর খুব একটা দেখাও যায় না শাল পাতার থালা।প্লাস্টিক ও থার্মোকলের দাপটে ক্রমশই ফিকে হয়ে যাচ্ছে শালপাতা।তবে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখতে এখন ওই পাতার গুরত্ব বুঝছে পৃথিবী।আর তাই গোবরুর মতো গ্রামগুলিও আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শালপাতা শিল্পকে কেন্দ্র করে।সর্বোপরি শালপাতা একটি থালা নয় ,আর মধ্যে জড়িয়ে আছে আমাদের স্মৃতি,আবেগ আর গ্রামের মানুষের ঐতিহ্য।

